পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ পরীক্ষায় উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনসহ মোট ৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ছিল। মোট ৯২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬১৩ জন। এর মধ্যে ২৩৯ জন বালক এবং ৩৭৪ জন বালিকা। উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ, যা স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে সন্তোষজনক।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কেন্দ্রজুড়ে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা ও পর্যাপ্ত তদারকি ব্যবস্থা। পরীক্ষার হলগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কোনো ধরনের নকল, বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেক অভিভাবক সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই, সৃজনশীল চিন্তাধারা বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে বৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করে।

স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন ও প্রণোদনার বিকল্প নেই। বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের উৎসাহিত করা হলে ভবিষ্যতে তারা জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জনে সক্ষম হবে।

এদিকে উপস্থিতির হার তুলনামূলক কিছুটা কম হওয়ার কারণ হিসেবে অনেকে অসুস্থতা, দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াতের সমস্যা এবং পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে উপস্থিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শেষে অতি শিগগিরই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কৃতী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান ও বৃত্তি বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে।